দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হিমালয়ে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখা দিলেই প্রথম প্রশ্ন ওঠে—এর কারণ কী? নেপালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যার ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত সেই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি। দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং তিব্বতের প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষের উপস্থিতি কম থাকায় ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা তাই স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে বন্যার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তবে বর্ষাকালের ঘন মেঘের কারণে এবার সেই কাজও সহজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা।
নেপালের আবহাওয়া ও জলবিদ্যা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা কিছু স্যাটেলাইট ছবি দেখেছেন, যেখানে তিব্বতের অংশে একটি পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ বরফের একটি অংশ ধসে পড়ার চিত্র দেখা গেছে। সেটি হিমবাহের কোনো অংশও হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
কর্মকর্তাদের মতে, বরফের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পাথর ও অন্যান্য পলি নিচে নেমে আসে। নিচে পড়ার সময় বরফ ও পাথরের মধ্যে ঘর্ষণের ফলে কিছু পরিমাণ পানিও তৈরি হয়ে থাকতে পারে। পরে ধসে পড়া পাথর ও পলি লেন্দে নদীতে বাঁধের মতো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
প্রথমে ওই প্রতিবন্ধকতার কারণে নদীর পানিপ্রবাহ আটকে যায়। পরে জমে থাকা পানির চাপে সেই বাধ ভেঙে গেলে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে এসে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনে থাকা নেপালের কয়েকজন শিক্ষাবিদও জানিয়েছেন, চীনা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তারা একই ধরনের তথ্য পেয়েছেন। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনাটিকে নেপালে সৃষ্ট একটি কাদাধস হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এর আগে হিমবাহের ওপর তৈরি কোনো হ্রদ ধসে যাওয়ার কারণেও বন্যা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। তবে কয়েকজন হিমবাহ বিশেষজ্ঞ সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
ফলে নেপালের ভয়াবহ বন্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। পরিষ্কার স্যাটেলাইট ছবি পাওয়া এবং একাধিক সূত্রের মাধ্যমে সেগুলো যাচাই করার পরই দুর্যোগের সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
/অ